ওয়ালজানের বুঝতে বাকি রইল না যে এরা নোরেং এর বড় বোনের মেয়ে। তারা উভয়ে কিছুক্ষণ আলাপ করে। পরে সেরেনজিং সেরেনীকে তাড়াতাড়ি স্নান সারতে বলে। স্নান সেরে দুবোন ওয়ালজানের সাথে মামির বাড়ি ফিরে। সেরেনজিং সেরেনী বুঝতে পারে ওয়ালজাম তাদের মাসতুতো ভাই। মাসির বাড়িতে এসে সেরেনজিং ও সেরেনী প্রথম প্রথম খুব আদর পেতো। ক্রমে তাতে ভাটা পড়ে গেল। এখন মাসি কাজের পর কাজ দেয় এদের নদী থেকে পানি আনা জঙগল থেকে লাকড়ি আনান, জুম ক্ষেতে কাজ করা, রান্না করা আরও কত কাজ। দুঃখে সেরেনজিং নীরবে কাঁদে।
“হিবা আংআ আসাখো আমা থাংয়ি দংওদে
ওয়ারী গিসিক বালারাম আপফা রোদিলাংওদে”
বাংলা
“মা বাবা থাকতো যদি পালতো কষ্ট করে
সুখে দুখে থাকথাম মোরা এক সাথে করে।”
সেরেনজিং ও সেরেনীকে তাদের , মাসি অত্যাচার করে তা ওয়ালজান একদিন জানতে পায়। কিন্তু সে কী করবে? সেও তো একজন ভিনদেশি এদের মাসির আশ্রয়েই এখানে থাকে। একদিন সেরেনজিং নদী থেকে পানি আনতে গিয়ে একা একা খুব কাঁদছিল তার মাসীর অত্যাচারের কথা ভেবে। ওয়ালজাম যাচ্ছিল মাঠে গরু নিয়ে। সেরেনজিংকে নদীর ঘাটে কাঁদতে দেখে এগিয়ে যায় সে এবং আদর করে জিজ্ঞেস করে কাঁদছো কেন সেরেনজিং? জানি তোমাকে দিয়ে অনেক কাজ করানো হচেছ সে দুখেই কি কাঁদছে সেরেনজিং ভিজা গলায় উত্তর দেয়,
“দারাংখোবা চানচিজা খকবালসানা রে.বারা
মাদে নোরেং দককানা আংআ সান্দিফায়েংআ।”
বাংলা
কোনো চিন্তা করি না শুধু এক বোঝা লাকড়ি
মাসি আমার রাখবে না লাকড়ি ছাড়া গেলে বাড়ি”।
ওয়ালজানের খুব দয়া হল। অতঃপর চিন্তা করে করে বলে, ঠিক আছে
“মাদে নামনিক জাআওদে মামাথাং আগানগেন
আগ্রিদুগা জামজাদে আংআ নাংখো নিফাগেন”
বাংলা
মাসি তোমায় ভালনা বাসলে বলব মামার কাছে
কেউ যদি না দেখে ওয়াজান তোর জন্যই আছে।”
দিন যায়, মাস যায়, বছর ঘুরে ঋতুর পরিবর্তন হয়। এতদিনে সেরেনজিংয়েরও অনেক অনেক পরিবর্তন ঘটেছে তার দেহেও মনে। কিশোর কাটিয়ে নতুন যৌবনে পা দিয়েছে সেরেনজিং। মাসির হুকুমে জুমক্ষেতে সেরেনজিংও এখন কাজ করে ওয়ালজানের সাথে। কোন কোন সময় গরু বাছুর গুলো ঘাস খাওয়ানোর জন্য মাঠে যায় সেরেনজিং। পাহাড়ের নীচে সমতল ভূমিতে গরু ছেড়ে দিয়ে গাছের ছায়ায় বসে সে ভাবে য়ালজানের কথা।
সেরেনজিং এর পরনের গান্না ছিড়ে গেছে। এখন সে যুবতী ছেঁড়া কাপড় পরে বাইরে যেতে তার লজ্জা লাগে। ছিন্ন বস্ত্রে নদীর পানি তুলতে এসে সেরেনেজিং কাঁদছিল একা একা।
“আমা থাংয়ি দংওদে ইন্দি দুকখো মানজাচিম
আপফা থাংয়ি দঙওদে গান্নাসারি গান্নাচিম।”
বাংলা
মা যদি থাকতো বেঁচে এত দুঃখ পেতাম না
বাবা যদি বেঁচে থাকতো কাপড়ের অভাব হতনা”।
ও পথে ওয়ালজাম যাচ্ছিল গরু নিয়ে। সেরেনজিংকে দেখে এগিয়ে আসে লজ্জায় সেরেনজিং কলসি ও লাউপাত্র দিয়ে তার ছিন্ন বস্ত্র ঢেকে জোড়ো সরো হয়ে রইল। সেরেনজিংকে এমন অবস্থায় বসে থাকতে দেখে ওয়ালজাম জিজ্ঞেস করে। এদিকে ও দিকে তাকিয়ে সেরেনজিং বলে, আমার গান্না ছিড়ে গেছে। আমার লজ্জা লাগে।
ওয়ালজাম হেসে উত্তর দেয়,
“জা.লিক গি.থাং ফা.লানি দংআ থাংখা খ.লাচি
বারাশাড়ি রানাদে রেবো নোনো আন্থিচি”
বাংলা
মরিচ বেচার তিরিশ টাকা আছে আমার হাতে
ভাল শাড়ি কিনে দেবো চলো বাজারেতে।
সেরেনজিং লজ্জায় মাথানত করে বলে,
“হানথি বাজাল চানারবা আংদে মোকরেতারিয়া
গান্নাসারি রানাবা সংনক মিত্তাকারিয়া”
বাংলা
হাট বাজারে যাইতে আমার লজ্জা করে ভারি
পাড়া পরশি মন্দ বলবে পরলে তোমার শাড়ি।”
ওয়ালজাম মৃদু হেসে বলে, আচ্ছা মাসিকে বলেই তোমাকে নিয়ে বাজারে যাবো, তোমার জন্য কাপড় কিনতে। মেরেনজিং মৃদু হেসে ওয়ালজানের দিকে এক পলক তাকিয়ে মাথা নত করে। ওয়ালজাম মাঠে চলে যায়। সেরেনজিং ঘরে ফিরে কাঁখে কলসি মাথায় লাউ পাত্র নিয়ে। ইতিমধ্যে ওয়ালজাম তার অনেক বীরত্বের কথা সেরেনজিংয়ের কাছে গল্প করেছে। সেরেনজিং নিবিষ্ট মনে তা শুনেছে আর মনে মনে ভেবেছে যদি ওয়ালজাম তার হতো।
প্রচ্ছদ শিল্পী তিতাস চাকমা
চলবে…
‘লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল’
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান......বিস্তারিত
-
ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত
: ২০২৫ সালের প্রথম রংচু গালা ধরাতী গ্রামে শুরু হয়েছে। গত...
-
প্রণব নকরেক-এর দুটি কবিতা
: অভিশপ্ত সিসিফাস আষাঢ়ে ভেজা পথ হাঁটছি একা মিলছেনা অবসর ক্লান্তিতে...
-
আজ লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের জন্মদিন
: গারো জাতিসত্তার বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের আজ জন্মদিন! থকবিরিম...
-
Ku’bibal ।। Dama।। Liang Ritchil
: Dama Liang Ritchil Rangri mandal gambari, Oe ku•monggrike dongari; Nokma...
-
লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান...
-
নিগূঢ় ম্রং-এর দুটি কবিতা
: অদ্ভুত নেশা —————– খোঁপায় বুনোফুল লাল টকটকে দকমান্দা পড়া উদাসী...
‘ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত’
: ২০২৫ সালের প্রথম রংচু গালা ধরাতী গ্রামে শুরু হয়েছে। গত......বিস্তারিত
‘লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল’
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান......বিস্তারিত



ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত
প্রণব নকরেক-এর দুটি কবিতা
আজ লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের জন্মদিন
Ku’bibal ।। Dama।। Liang Ritchil
লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল
নিগূঢ় ম্রং-এর দুটি কবিতা












