পূর্ব প্রকাশের পর…
সেরেনজিং ও সেরেনীর প্রতি কদিন ধরে নোরেং মাসি আরও বেশি কঠোর হয়েছে। কাজের পর কাজ চাপিয়ে দেয়। কাজের শেষ নেই। এখন দুবোনকে ওয়লজানের সাথে কাজ করার জন্য জুম ক্ষেতে পাঠানো হয়। সাত সকালে ওরা বেরিয়ে পড়ে জুম ক্ষেতে। সন্ধ্যায় ক্লান্ত দেহে ফিরে আসে গৃহে। গভীর জঙ্গলে ও জুম ক্ষেতে যখন ওয়ালজানের সাথে সেরেনজিং কাজ করতে থাকে তখন তার গায়ে শিহরণ লাগে। ঢেউ লাগে যৌবনের কামনায়। মনে মনে ভাবে ওয়ালজান যদি আমার স্বামী হতো। কিন্তু উপায় নেই। কারণ ওয়ালজান যে তার খালাত ভাই। জেনে রাখা ভাল।
গারো সমাজে মাতৃবংশীয় মেয়েদের সাথে মাতৃ বংশীয় কোনো ছেলের সাথে কোনো বিয়ে হতে পারে না। ওয়ালজান কিন্তু ভাল করেই জানে সেরেনজিং তার আপন বোন নয়। সেরেনজিংকে নিয়ে ওয়ালজান স্বয়নে স্বপন অনেক কিছু ভাবে। সে যেখানে যে অবস্থাতেই থাকে সেরেনজিংয়ের সহজ সরল ব্যবহার কমনীয় দেহের সৌন্দর্য তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সব সময়। একদিন ওয়ালজান সেরেনজিং ও সেরানী জুম ক্ষেতে অনেক্ষণ কাজ কারার পর একটি গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলো। বাড়ি থেকে আনা সেদ্ধ করা থাবলচু (গারো আলু) খেলো সবাই। সেরেনজিং সেরেনীকে ঝর্না থেকে পানি আনার জন্য বললে সে রাউগগ বা লাউয়ের ছোট কলসি নিয়ে পাহাড়ের নিচে নেমে গেল। ওয়ালজান সেরেনজিংয়ের মুখ পানে চেয়ে আছে অপলক নয়নে। সেরেনজিং লজ্জায় মাথা নত করে বলে,
-কী দেখছো দাদা?
-দেখি তোমাকে। তোমার এই রূপ এই লাবণ্য আমাকে দিন দিন ভাবিয়ে তুলছে। যেখানেই থাকি তুমি সর্বদা আমার চোখে ভাস!
সেরেনজিং ওয়ালজানের এ উক্তি বুঝে। মৃদু কণ্ঠে বলে সেরেনজিং,
-দাদা তুমি কি সত্যি আমাকে নিয়ে কিছু কল্পনা কর?
ওয়ালজাম আনমনে বলে যায়-
“ওয়াখাপো স্রিংবাদগিপা নকখিংওনি গুয়াংয়বা
সেরেনজিংখো বারাসা নিক্কা জুমাং ওয়ালোবা”।
বাংলা
“মাকড়সা জাল বুনে ঘরের চালে
সেরেনজিংকে জড়াতে চাই প্রেমের জালে।
ওয়ালজানের এ উক্তি শুনে সেরেনজিংয়ের দেহমনে শিহরণ জেগে ওঠে। কিন্তু উপায় নেই। ওয়ালজান তার খালাতো ভাই। তার সাথে কি করে তার প্রেম হতে পারে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আস্তে আস্তে সেরেনজিং বলে,
-দাদা তোমার ঐ কল্পনা বৃথা। ভাই বোনে কোনোদিন প্রেম হতে পারে না।
আমি যে তোমার খালাতো বোন।
– তোমার ধারণা ভুল সেরেনজিং। আমি তোমার ভাই নই। আমি ভীন দেশি যুবক। তবে তোমার মাসি আমাকে পুত্রবৎ আদর করে।
-দাদা তুমি জান না আমাদের মাসি আমাদেরকে কী হালে খাটাচ্ছে। এরপর এ সমস্ত জানতে পেলে আমাদেরকে তাড়িয়ে দেবে। এ পৃথিবীতে আমাদের আর আপন বলতে আর কেউ নেই। মামারা পর ভাবে সবসময়। আমায় ক্ষমা কর দাদা, বলে ওয়ালজানের পায়ে হাত রেখে সেরেনজিং কাঁপছিলো। ওয়ালজান সেরেনজিংয়ের কম্পিত হাত বুকের মধ্যে টেনে ধরে তাকে সান্ত¡না দিয়ে বলে,
– প্রেম কোনোদিন মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে না। তোমকে আমি এ কথা বলব না তবে এটা মনে রেখো পৃথিবীতে তোমাকে কেউ ঠাঁই না দিলেও আমি তোমার জন্য আছি। তোমার হাত ধরে শপথ করে বলছি আমি তোমার জন্য রইলাম।
ততক্ষণে সেরানী ঝর্না থেকে জল নিয়ে এসে গেছে কাছকাছি। ঐ সময় সেরেনজিংয়ের হাতটি ওয়ালজান তার বুকের উপর ধরে শপথ বাণী উচ্চারণ করছিল। সেরানী চাম্বিল গাছের আড়ালে থেকে তা দেখছিল ও কথাগুলো শুনছিল। সে ভারী খুশি হল মনে মনে। হেসে হেসে কাছে এসে দিদি ও দাদাকে নিজ হাতে পানি পান করালো সেরানী। পড়ন্ত বেলা আর দেরি করা চলে না । আর একটু পরেই সন্ধ্যা নেমে আসবে। ওরা ঘরে ফেরে।
চলবে…
কভার প্রচ্ছদ শিল্পী তিতাস চাকমা
আরো লেখা
পালাগান সেরেজিং ।। পর্ব-৫।।মতেন্দ্র মানখিন
পালাগান সেরেজিং ।। পর্ব-৬।।মতেন্দ্র মানখিন
পালাগান ‘সেরেজিং’ ।। পর্ব-৭ ।।মতেন্দ্র মানখিন
চু ।। গারো সম্প্রদায়ের প্রধান পানীয় ।। মতেন্দ্র মানখিন
উত্তরে লক ডাউন দক্ষিণে লাশের গন্ধ ।। মতেন্দ্র মানখিন
‘লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল’
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান......বিস্তারিত
-
ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত
: ২০২৫ সালের প্রথম রংচু গালা ধরাতী গ্রামে শুরু হয়েছে। গত...
-
প্রণব নকরেক-এর দুটি কবিতা
: অভিশপ্ত সিসিফাস আষাঢ়ে ভেজা পথ হাঁটছি একা মিলছেনা অবসর ক্লান্তিতে...
-
আজ লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের জন্মদিন
: গারো জাতিসত্তার বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের আজ জন্মদিন! থকবিরিম...
-
Ku’bibal ।। Dama।। Liang Ritchil
: Dama Liang Ritchil Rangri mandal gambari, Oe ku•monggrike dongari; Nokma...
-
লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান...
-
নিগূঢ় ম্রং-এর দুটি কবিতা
: অদ্ভুত নেশা —————– খোঁপায় বুনোফুল লাল টকটকে দকমান্দা পড়া উদাসী...
‘ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত’
: ২০২৫ সালের প্রথম রংচু গালা ধরাতী গ্রামে শুরু হয়েছে। গত......বিস্তারিত
‘লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল’
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান......বিস্তারিত



ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত
প্রণব নকরেক-এর দুটি কবিতা
আজ লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের জন্মদিন
Ku’bibal ।। Dama।। Liang Ritchil
লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল
নিগূঢ় ম্রং-এর দুটি কবিতা












