Thokbirim | logo

৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

একান্ত আলাপ ।। ‘সংসারেক : দি লাস্ট কিপারস’ সিনেমার পরিচালক জহিরুল হাসান

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২০, ১৫:২৩

একান্ত আলাপ ।। ‘সংসারেক : দি লাস্ট কিপারস’ সিনেমার পরিচালক জহিরুল হাসান

গারো সম্প্রদায়ের আদি ধর্ম হচ্ছে সাংসারেক ধর্ম। সেই আদি  সাংসারেক ধর্মকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘সংসারেক : দি লাস্ট কিপারস’ নামের একটি সিনেমা। সিনেমাটি তৈরি করছেন জহিরুল হাসান (Zahirul Hassan)। সেই  সিনেমা তৈরির কারণ কিংবা পৃথিবীতে অনেক বিষয় থাকতে কেন গারো সম্প্রদায়ের আদি ধর্ম সাংসারেককেই বেছে নিতে হবে এইরকম  ‘সংসারেক : দি লাস্ট কিপারস’ সিনেমার নানা বিষয় নিয়ে থকবিরিমের বিশেষ প্রতিনিধি নিগূঢ় ম্রংয়ের সাথে কথা বলেছেন পরিচালক জহিরুল হাসান।

থকবিরিম : The last of songsarek- কোন ভাষায় তৈরি হচ্ছে।

জহিরুল হাসান : প্রথমত, চলচ্চিত্রটির নামে পরিবর্তন এসেছে। দি লাস্ট অব সংসারেকের পরিবর্তে নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘সংসারেক : দি লাস্ট কিপারস’। চলচ্চিত্রের নির্মাণ কাজ আশানুরূপ এগোচ্ছে। আমি আমার সকল চলচ্চিত্রে মাতৃভাষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেই। সে ধারাবাহিকতায় এই চলচ্চিত্রেও প্রধান চরিত্রসমূহের সংলাপ/বক্তব্য তাদের মাতৃভাষায়ই রেকর্ড করা হচ্ছে। যদিও আমি আচ্চিক ভাষা এখনও পর্যন্ত ভালো বুঝতে পারি না, তবে কাজ করতে করতে অনেকটাই বোধগম্য হচ্ছে। এছাড়া চলচ্চিত্রটিতে কোনো ধারাবিবরণী যদি ব্যবহার করতে হয় তবে সেটা অবশ্যই আচ্চিকের পাশাপাশি বাংলা এবং ইংরেজি মাধ্যমেও থাকবে।

থকবিরিম : ফিল্মের পরিচালক কি আপনি সাথে আর কেউ আছে?

জহিরুল হাসান : জি বরাবরের মত আমার সাথে যারা কাজ করেন, এবারও তারাই আছেন। তাদের সাথে আদিবাসী গারো বেশ কয়েকজন আছেন যারা নানান ভূমিকায় এই নির্মাণকাজের সাথে জড়িত আছেন। তবে এবার আমার নিয়মিত প্রযোজক যারা ছিলেন, সম্ভবত তাদের পাশে পাচ্ছি না। এখনও পর্যন্ত প্রযোজনা আমি নিজেই করছি।

Zahirul Hassan

পরিচালক Zahirul Hassan  ছবি ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত

থকবিরিম : অনেক বিষয়বস্তু থাকতে কেন সাংসারেক বেছে নিলেন?

জহিরুল হাসান : আমি মূলত প্রামাণ্যধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণ করি। এবং আমার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোয় সাধারণত মানুষের অধিকারবোধ, জীবন দর্শন এবং যাপিত জীবনের বৈচিত্র্য প্রাধান্য পায়। সে হিসেবে বিষয়বস্তু হিসেবে সাংসারেক আদর্শই মনে হয়েছে। এছাড়া আমার কৈশোর থেকেই বেশ কয়েকজন আদিবাসী গারো বন্ধুর সাথে ঘনিষ্ঠতা থাকার সুবাদে তাদের জীবন যাপন পদ্ধতির সাথে আমি অনেকটাই পরিচিত এবং তাদের যাপিত জীবনের বৈচিত্রর‌্য বরাবরই আমাকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। তাই অনেকদিন থেকেই ভাবছিলাম গারো জীবনাচরণ নিয়ে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করবে। কিন্তু এই বিষয়ে প্রাথমিক গবেষণা শুরুর পর একজন শতবর্ষী সাংসারেক খামালের সাথে পরিচয় ঘটে এবং এই পর্যায়ে আমার চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আসে।

থকবিরিম : কোথায় কোথায় লোকেশন এবং কেমন সহযোগীতা পাচ্ছেন?

জহিরুল হাসান : অনেকগুলো লোকেশনে শুটিং এর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এই চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রাণ কয়েকটি চরিত্র যেহেতু মধুপুর নিবাসী, তাই মধুপুরই প্রাধান্য পাচ্ছে আপাতত। এছাড়া মেঘালয়ের গারো হিলস ও খাসি হিলস এবং নেত্রকোনার বিরিশিরি ও দুর্গাপুর অঞ্চলে শুটিং এর পরিকল্পনা আছে। বরাবরের মত এই চলচ্চিত্রটির গবেষণা ও নির্মাণেও আমি সর্বত্র সহযোগিতা পাচ্ছি। সবাই খুব আগ্রহসহকারে সহযোগিতা করছেন। যদিও অনেকেই হয়তো খানিকটা অবাক হয়েছেন ভিন্নজাতি ধর্মের মানুষ হিসেবে কেন আমি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য এই বিষয়বস্তু বেছে নিয়েছি বা বিষয়বস্তুর কতটুকু গভীরতা উঠে আসবে এই চলচ্চিত্রে বা আদৌ উঠে আসবে কিনা, এই নিয়ে সংশয়ে ছিলেন কিন্তু আমার সাথে সরাসরি কথা হওয়ায় অনেকেরই এই ধরণের সংশয় দূর হয়েছে এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি মেঘালয়ের কয়েকজন প্রমিনেন্ট কালচারাল এক্টিভিস্ট এবং ফিল্মমেকার ওখানে শ্যুটিংকালীন সময়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

থকবিরিম : গারো সম্প্রদায়ের প্রধান চরিত্র কে? কারা কারা থাকছে?

জহিরুল হাসান : বর্তমানে কয়েকজন মাত্র শতবর্ষী মানুষ আছেন যারা এখনও সংসারেকে বিশ্বাসী এবং স্রোতের বিপরীতে অবস্থান করে টিকিয়ে রেখেছেন সংসারেকের নীতি। প্রতিনিয়তই তাদের সাঁতরাতে হচ্ছে স্রোতের বিপরীতে, ঘরে এবং বাইরে। এমন দুইজন মানুষ, জনিক নকরেক এবং দীনেশ নকৱেক এই চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান চরিত্র। কয়েকজন তরুণও ইদানিং চেষ্টা করছেন সংসারেকে ফেরার, সংসারেকের রীতিনীতি জানার, বোঝার, পালন করার এবং প্রচার করার। তাদেরও রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে ঘরে এবং বাইরে সামাজিকতার সাথে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ওয়ারী নকরেক মারাক ও সুসুরেং নকরেক। এছাড়াও পর্যায়ক্রমে আরও কিছু চরিত্র প্রাধান্য পেতে পারে। বিশেষকরে মেঘালয়ে হয়তো আমরা আরও কিছু চরিত্র পেয়ে যাবো। সংসারেকের ব্রতী এমন প্রবীন ও নবীনের নিজেদের আদি-অস্তিত্ব, মৌলিকতাকে টিকিয়ে রাখার এই প্রচেষ্টাকে ঘিরে নির্মিত হতে যাচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যধর্মী চলচ্চিত্র সংসারেক : দি লাস্ট কিপারস।

থকবিরিম : কাজ কতটুকু হলো? কবে নাগাদ মুক্তি পাবে?

জহিরুল হাসান : ধারনা করছি হয়তো চলচ্চিত্রটির এক চতুর্থাংশের শুটিং শেষ হল। তবে নির্মাণকাজ চলাকালীনই আরও ভিন্নভিন্ন ভাবনার আঙ্গিকে বেরিয়ে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে হয়তো চলচ্চিত্রটির ব্যাপ্তি বেড়ে যেতে পারে, কাজ শেষ হতেও দেরি হতে পারে। এছাড়া কোভিডকালীন দুর্যোগ কবে নাগাদ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত যাতায়াতের উপযোগী হবে সেটা আমরা কেউ জানি না। আশা করছি হয়তো নভেম্বর ডিসেম্বর নাগাদ মেঘালয়ে শুট করা সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে ধারণা করা যায় আগামী ফেবুরুয়ারি/মার্চের দিকে হয়তো পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যধর্মী চলচ্চিত্র সংসারেক: দি লাস্ট কিপারস মুক্তি পেতে পারে।

থকবিরিম : Songsarek: The last Keepers এর মাধ্যমে আপনি আসলে কী বার্তা সবার মাঝে পৌচ্ছাতে চাইছেন?

জহিরুল হাসান : তথাকথিত সভ্যতার ভিড়ে বিলীনপ্রায় সংসারেকের ব্রতী প্রবীন ও নবীনের নিজেদের আদি-অস্তিত্ব, মৌলিকতাকে টিকিয়ে রাখার এই প্রচেষ্টাকে ঘিরেই নির্মিত হতে যাচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণাধর্মী চলচ্চিত্র সংসারেক: দিলাস্ট কিপারস। আমরা আশা করছি এই ভূখণ্ডের আদিবাসী যারা আছেন, যারা অনেকেই হয়তো নানাবিধ কারণে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন, প্রতিনিয়ত করতে হচ্ছে টিকে থাকার সংগ্রাম, তাদের জন্য হয়তো অনুপ্রেরণা হিসেবে এই চলচ্চিত্রটি অবস্থান নিতে পারে। শুধু আদিবাসীদের জনাই নয়, শেকড়ের কাছাকাছি থেকে নিজস্ব সংস্কৃতি মূল্যবোধ আঁকড়ে যারা বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন তাদের জন্যও হয়তো এই চলচ্চিত্র অনুপ্রেরণা হিসেবে আসতে পারে।

 

 আরো লেখা..

১৯৬৪ সালের  রায়ত ।। ৬ই ফেব্রুয়ারির ট্র্যাজিডি হয়ে উঠুক অম্লান ।।  সরোজ ম্রং

গারো জাতির সন্তান জন্ম ও নামকরণ, একটি সংস্কৃতির ধারা ।।  বেনেডিক্ট এম. সাংমা

‘গিত্তাল মি আচ্ছিয়া’ ডকুমেন্টারি ফিল্মের প্রথম প্রদর্শনী ৮ সেপ্টেম্বর লন্ডন

https://www.facebook.com/IndependentTVNews/videos/1211504035676807

আদিবাসী সাহিত্য নিয়ে বইমেলায় 'থকবিরিম'

একুশে বইমেলায় আদিবাসীদের সাহিত্য চর্চা নিয়ে হাজির হয়েছে #থকবিরিম প্রকাশনী। দেশসেরা প্রকাশনীগুলোর পাশাপাশি সমানতালে এগিয়ে এটি। এক নজরে দেখে নিন……….

Gepostet von independent24.tv am Freitag, 22. Februar 2019




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x