ওয়াল (আগুন) যখন গর্ভে ছিল রুয়েনছিমা রুয়েন্দামার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে সুসিমির মা তাকে শেষ দেখা দেখতে গেল। পথে শবদাহের চিতার কাঠ রেখে দেওয়া হয়েছিল সে সেই কাঠে হোচট খেয়ে পড়ে গেল। তাই দেখে দাকদামে রুদামে বলল: ‘‘আইআও:! রোগে শোকে কারো মৃত্যুতে যাওয়ার পথে হোচট খাওয়া খুবই অশুভ লক্ষণ। তার উপর তোমার সাথে মৃতের নামের মিল আছে, তোমার মঙ্গল হবে না, তুমি বাড়ি ফিরে যাও।”
সুসিমির মা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গালাগালি করল, শাপশাপান্ত দিল। বাড়িতে তো সে ফিরে গেলই না বরং রাতে সবার সাথে সেই মরা লাশ পাহারা দিল। এমন অবস্থাতে হঠাৎ তার গর্ভ যন্ত্রণা আরম্ভ হল। তাড়াতাড়ি সে কোনোমতে বাড়ি পর্যন্ত পৌছে ওয়াল (আগুন) কে জন্ম দিল এবং গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ল। কোনভাবেই তার অবস্থার উন্নতি হল না, ক্রমশ: দুর্বল হয়ে সে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।
খাৎছি বিয়ারী সুসিমিকে বলল: ‘‘সুসিমি, তোমার মায়ের যে এমন মূমূর্ষু অবস্থা তার কারণ কী তুমি কিছুই অনুমান করতে পারছ না? তোমার মা ওয়ালস্ফল (রাক্ষস) কে জন্ম দিয়ে এমন হয়েছে। বুকের দুধের সাথে সেই রাক্ষস তোমার মায়ের জীবনী শক্তি শুষে খাচ্ছে।”
সুসিমি তার আত্মীয় স্বজন সবাইকে ডেকে কথাটা বলল। গর্ভধারিনী মায়ের রক্ত খেকো রাক্ষসকে সবাই মিলে পিটিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল।
‘‘সত্যি আমাকে জন্ম দিয়েই আজ মায়ের এই অবস্থা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন সকলের সাথে একত্রে বসবাস করবার উপযুক্ত আমি নই।”
এই ভেবে সেও পাতালপুরিতে পালিয়ে গেল। সেখানে স্লাংমা পাথাংমাকে ‘‘মা” ডেকে বসবাস করতে লাগল।
অসুস্থ সুসিমির মা ছেলের শোকে দিনরাত বিলাপ করতে করতে মারা গেল। মৃতদেহ সৎকারের জন্য আগুন প্রয়োজন। কিন্তু ওয়াল (আগুন) কে সবাই মিলে তাড়িয়ে দিয়েছে যাই হোক, মায়ের মৃত্যু সংবাদ দিয়ে ওয়ালকে আনার জন্য মাৎ (কাঠ বিড়ালী) কে পাঠানো হল।
সব শুনে ওয়াল বলল:
‘‘আমি খুবই লজ্জা পেয়েছি, ফিরে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। মশাল জ্বালিয়ে দিচ্ছি, তাই নিয়ে যেও।’’
মশালটা লেজে বেঁধে মাৎ লাফ দিয়ে দিয়ে সমুদ্র পার হচ্ছিল। সেই সময়ে হঠাৎ লেজ নিচে ঝুলে পড়াতে মশাল পানিতে চুবানি খেয়ে নিভে গেল। খালি হাতে সে ফিরে এলো।
এরপর আরিংগা (কুমির) কে পাঠানো হলো। সে পাতাল পুরিতে গিয়ে নিজের লেজে একটা গর্ত তৈরি করল। মশাল জ্বালিয়ে সেই গর্তের সাথে বেঁধে দেওয়া হলো। যেতে যেতে সেই মশাল থেকে আগুনের ফুলকি পড়ে গিয়ে আরিংগার সারা পিঠ পুড়ে গেল। পোড়ার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সে সাগরের পানিতে ডুব দিল। সেই থেকে সে পানিতেই থেকে গেল। ভয়ে আর ফিরে এলো না। লেজের গর্ত, পিঠের পোড়া কালো দাগ এসব আজো আরিংগার দেহে দেখা যায়।
সবাই ব্যর্থ হলো খাৎছি বিয়ারী নিজে আগুনের কাছে গেল। আগুন বলল: ‘‘মায়ের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে দুঃখিত, কিন্তু সশরীরে যেতে লজ্জিত। বাড়ি গিয়ে চকমকি পাথর ঠুকলেই আমাকে পাবে।”
সে বাড়ি ফিরে চকমকি পাথর ঠুকতেই আগুন বেড়িয়ে পড়ল। তাই দিয়ে সবাই মিলে সুসিমির মায়ের সৎকার করল।
# কথক: ধরণ সিং সাংমা, তুরা, গারো হিলস।
# অনুলিপি : লেমন মানখিন
সূত্র-জানিরা
‘লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল’
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান......বিস্তারিত
-
ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত
: ২০২৫ সালের প্রথম রংচু গালা ধরাতী গ্রামে শুরু হয়েছে। গত...
-
প্রণব নকরেক-এর দুটি কবিতা
: অভিশপ্ত সিসিফাস আষাঢ়ে ভেজা পথ হাঁটছি একা মিলছেনা অবসর ক্লান্তিতে...
-
আজ লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের জন্মদিন
: গারো জাতিসত্তার বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের আজ জন্মদিন! থকবিরিম...
-
Ku’bibal ।। Dama।। Liang Ritchil
: Dama Liang Ritchil Rangri mandal gambari, Oe ku•monggrike dongari; Nokma...
-
লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান...
-
নিগূঢ় ম্রং-এর দুটি কবিতা
: অদ্ভুত নেশা —————– খোঁপায় বুনোফুল লাল টকটকে দকমান্দা পড়া উদাসী...
‘ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত’
: ২০২৫ সালের প্রথম রংচু গালা ধরাতী গ্রামে শুরু হয়েছে। গত......বিস্তারিত
‘লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল’
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান......বিস্তারিত






ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত
প্রণব নকরেক-এর দুটি কবিতা
আজ লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের জন্মদিন
Ku’bibal ।। Dama।। Liang Ritchil
লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল
নিগূঢ় ম্রং-এর দুটি কবিতা












