Thokbirim | logo

৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কবি হয়ে ওঠা, লেখক হয়ে ওঠার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠা-তারা সাংমা

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৩, ২৩:৪৮

কবি হয়ে ওঠা, লেখক হয়ে ওঠার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠা-তারা সাংমা

তারা সাংমা একজন উদীয়মান তরুণ উপন্যাসিক। গারো ভাষার ও সম্প্রদায়ের একজন  হয়েও তিনি বাংলা ভাষায় সাবলিলভাবে লিখে চলেন গল্প- উপন্যাস। অদৃশ্য রক্তক্ষণ তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস। থকবিরিমের সাথে কথা বলেছেন সদ্য প্রকাশিত উপন্যাস নিয়ে লেখালেখি নিয়ে। প্রিয় পাঠক আপনাদের জন্য প্রকাশ করা হলো তারা সাংমার সেই বিশেষ কথাগুলো। 

থকবিরিম : আদিবাসী লেখক হিসেবে অমর একুশে বইমেলা নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন? এই নিয়ে কোনো প্রস্তাবনা?

তারা সাংমা     : প্রথমত বলতে চাই, লেখালেখির সাথে যু্ক্ত থাকা মানুষদের আসলে কোনো জাত থাকে না। থাকতে নেই। তাদের কলম সকল মানুষের, সকল মানুষের কথা বলে। অমর ২১- এর গ্রন্থমেলা-লেখালেখির সাথে যুক্ত এবং পাঠকদের কাছে একটি উৎসবের মত। বিশেষ করে নতুন লেখকদের জন্য একটি সম্ভাবনার জায়গা। যদিও তা হওয়া উচিত নয়, তবুও সত্য, এই বই মেলাকে ঘিরেই সারা বছরের জমে থাকা বইয়ের আকাঙ্ক্ষা পাঠকরা পূরণ করে থাকে। বই খোঁজতে আসে। বিগত বছরগুলো থেকে প্রতি বছরই মানুষের সমাগম বাড়ছে। বই কিনুক কিংবা না কিনুক, পড়ুক কিংবা না পড়ুক, বইমেলায় ঘুরতে আসার যে প্রবণতা তৈরি হচ্ছে সেটাকে ইতিবাচকভাবে নিতে হবে। পাঠকদের চলাচল, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বসে বিশ্রাম নিবার সুযোগ রাখতে হবে। আমি এমন কিছু সিনিয়র সিটিজেনদের চিনি যারা ধুলার ভয়ে বইমেলাতে আসতে চান না।

থকবিরিম   : কবিতা উৎসব কিংবা বইমেলাতে আদিবাসী কবি-লেখকদের অংশগ্রহণ কেমন?

তারা সাংমা: আমি নিজে একজন আদিবাসী লেখক হয়ে বলবো আদিবাসী লেখকদের নিজেদের তুলে ধরার, নিজের বিকাশ ঘটানোর তেমন কোনো প্রচেষ্টা নেই। এটা আমার ক্ষেত্রেও। তাছাড়া আদিবাসী লেখকদের নিয়ে প্রচারের গণমাধ্যমও নেই।

থকবিরিম  : বইমেলাতে আপনার কী বই আসছে? কোন প্রকাশনী থেকে আসছে?

তারা সাংমা: আমার দ্বিতীয় উপন্যাস অদৃশ্য রক্তক্ষরণ, আসছে ঐতিহ্য প্রকাশন থেকে।

থকবিরিম  : আগের বইমেলাতে যে বই প্রকাশ হয়েছে তার পাঠক সাড়া কেমন?

তারা সাংমা : ২০২০ সালে আমার প্রথম উপন্যাস আঁধারে জোনাকি আসে ঐতিহ্য প্রকাশন থেকে। প্রত্যাশার চেয়ে অধিক সাড়া পাই এই উপন্যাসে। যা এখনো পাঠক নিচ্ছে।

থকবিরিম  : বই প্রকাশের আগে আর পরের জীবন সম্পর্কে মূল্যায়ন কেমন? বিশেষ করে আদিবাসী সমাজে? বন্ধুবান্ধব কেমন দেখছে আপনাকে?

তারা সাংমা: গাজীপুরে জন্ম এবং বেড়ে ওঠার কারণে মূল গারো জনগোষ্ঠী থেকে আমরা কিছুটা বিচ্ছিন্ন ছিলাম। তেমন করে আমাদের যোগাযোগ ছিলো না। প্রথম উপন্যাস আমাকে অনেকের সাথেই পরিচিত করে তোলে। প্রশংসা কুড়িয়েছি।

থকবিরিম       :আপনার লেখালেখি শুরু কীভাবে?

তারা সাংমা: আমার মা প্রচুর বই পড়তেন। বিয়ের সময় নিজ বাবার বাড়ি থেকে তিনি অনেক বই সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন এবং পড়বার জন্য বাবা মাকে বই কিনে দিতেন। এই বইগুলো তিনি যত্নে রেখেছিলেন। ছোটবেলা থেকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠেছিলো। তাছাড়া ছোটবেলায় মাসিক এক পত্রিকায় লেখালেখি করতাম।

থকবিরিম : লেখালেখিকে সচল রাখার উপায় কী?

তারা সাংমা: আমার প্রথম উপন্যাসের অনেক কথা আমি ফেসবুকে লিখে only me করে রাখতাম। এমন হতো বাসে বা ট্রেনে করে কোথাও যাচ্ছি মনে কিছু বাক্য ঘুরছে, একটি চরিত্র ঘুরছে। লিখে ফেলতাম। আমি যে প্রফেশনের সাথে আছি, সেখানে লেখালেখির জন্য, বই পড়ার জন্য খুব বেশি সময় পাই না। আমি আমার লেখাগুলো এভাবেই ধরে রাখি।

অদৃশ্য রক্তক্ষরণ

অদৃশ্য রক্তক্ষরণ

থকবিরিম       :লেখালেখি করতে গিয়ে কোনো  অভিজ্ঞতা? মজার বা দুঃখের?

তারা : অস্থিরতা কাজ করেছে। হালুয়াঘাটের আদিবাসী অধ্যুষিত কিছু স্থানের বর্ণনা আনতে গিয়ে পথঘাট, জায়গার নাম ভুলে যাচ্ছিলাম। বহুবার আবার ঘুরে আসার পরিকল্পনা করেও হয়নি। ভার্সিটির পড়া, পরীক্ষা, অফিসের ঝামেলা। খুব অসহায় আর অস্থির লাগছিলো। চোখবন্ধ করে হেঁটে আসা পথগুলো মনে করার চেষ্টা করছিলাম।

থকবিরিম       : আপনার পরে যারা লিখতে আসছে লিখছে তাদের লেখা সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

তারা : কিছু বলতে চাই না এই বিষয়ে।

থকবিরিম: বর্তমানে আপনি কী লিখছেন? কী নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন বা ব্যস্ত আছেন?

তারা: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমডিএস করছি। জুন-জুলাই মাসে পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গবেষণামূলক কাজটি নিয়ে এগুবো।

থকবিরিম       :লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

তারা : আমি মূলত মানুষের জীবনের কথা বলতে চাই আমার লেখালেখির মধ্য দিয়ে। আমি মনে করি লেখালেখি শুধু সাহিত্য সৃষ্টিই তার লক্ষ্য নয়। সমাজের অসংগতি তুলে এনে তার সমাধান খোঁজাটাও তার একটি লক্ষ্য। সমাজের অসংগতির বিষয়গুলো আমাকে আহত করে। ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের মত সমাজ সংস্কার করার প্রচেষ্টা করাটা হয়তো এই সময়ে দুঃসাহসিকতা। তুলে আনতে চাই।

থকবিরিম       :তরুণ লেখকদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

তারা সাংমা: খ্যাতি আসলে সকলেই প্রত্যাশা করে। নাম হোক, দেশ বিদেশের মানুষ তাকে চিনুক, বহুল পঠিত হোক তার লেখা বই, পুরস্কৃত হোক কে না চায়! তবে জীবনের আদর্শ থেকে সরে গিয়ে চাওয়াটাকে আমি সমর্থন করি না। কবি হয়ে ওঠা, লেখক হয়ে ওঠার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠা। লেখকের সৃষ্টিতে অনেক চরিত্র থাকে। মানুষ সেখান থেকে নায়ক চরিত্রকে বুকে ধারণ করে দীর্ঘদিন। তার মত হতে চায়। মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্যতে রাবন চরিত্রকে প্রেমিক, স্নেহময়ী পিতা এবং মানবিকরূপে এঁকেছিলেন। রামায়নের রাবন এবং মেঘনাদ বধ কাব্যের রাবণ চরিত্রের কিন্তু বিস্তর ফাঁরাক। মানুষ এই রাবণ চরিত্রের জন্য কেঁদেছে, যে মানুষটা এমন চরিত্র সৃষ্টি করে তার ব্যক্তি জীবনের চরিত্র নিয়েও মানুষের কৌতুহল থাকে।




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x