Thokbirim | logo

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রমোদ মানকিন- আমার কিছু স্মৃতি।। মিঠুন রাকসাম

প্রকাশিত : মে ১৩, ২০২৪, ২১:৩৬

প্রমোদ মানকিন- আমার কিছু স্মৃতি।। মিঠুন রাকসাম

২০০৭ সাল ঢাকা শহরের দুই ওয়ানগালা

ঢাকা ওয়ানগালা দুভাগ হয়ে গেছে।  এক ভাগ ফার্মগেট-রাজা বাজার-মনিপুরিপাড়া- মোহাম্মদপুর-পুরনো ঢাকা। আরেকভাগে কালাচাদপুর গুলশান বনানী নদ্দা-শাহজাদপুর- বাড্ডা। বাড্ডা কালাচাদপুর ওয়ানগালার প্রধান ভূমিকা পালন করছেন মান্না দা। আমাদের সবাইকে ডাকা হলো। মিটিংয়ে উপস্থিত হলাম। সাথে কালাচাদপুরের একঝাঁক তরুণ-তরুণী। আমাদের দাবি ওয়ানগালা হতে হবে খামাল দিয়ে, সাংসারেক আমুয়া করে। অনেক তর্ক গপ্পের পর রাজি করানো গেলো-ওয়ানগালা হবে খামাল দিয়েই। শুরু হলো কাজ। আমি ওয়ানগালা ম্যাগাজিনের প্রধান দায়িত্বে। সহযোদ্ধা সুহাস ম্রং, শুভ্র চিছাম, কার্তিক ঘাগ্রা আরো অনেকেই। সাংস্কৃতিক দলে অনিত্য মানখিন মিনতি আসাক্রা কুড়ি চিসিম টগর দ্রং প্রমুখ। ম্যাগাজিনের দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ করে দিলেন মিনতি চিসিম। তুমুল হাসি আনন্দে রাতদিন এককরে ওয়ানগালার কাজ করলাম। টাকার চিন্তা ছিলো না যা প্রয়োজন- দিলেন মান্না দা। প্রতি মিটিংয়ে ওয়াকফুরা খারি কিংবা মুরগি ফুরা খারি। শুনলাম তিনি ঐসময় নিজের একটা গাড়িও বিক্রি করে দিলেন তবু ওয়ানগালা করবেনই।

ওয়ানগালা অনুষ্ঠানের দিন একটু দেরিতে পৌঁছাই মাঠে। ম্যাগাজিন নিতে দেরি করেছি বলে। মঞ্চে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন। অনুষ্ঠান চলছে। ম্যাগাজিন হাতে উঠে গেলাম মঞ্চে। সেই প্রথম দেখা কিংবদন্তিতুল্য প্রমোদ মানকিনকে। সবার হাতে হাতে দিলাম। প্রতিমন্ত্রীর হাতেও দিলাম। আর বল্লাম- আমি মিঠুন রাকসাম, ম্যাগাজিনের সম্পাদক।  তিনি হাসলাম, ম্যাগাজিন হাতে নিলেন। একনজর দেখেই ম্যাগাজিনের প্রশংসা করলেন। ওয়ানগালা অনুষ্ঠানের কোন সময় আমার প্রথম প্রকাশিত কবিতার বই- ‘মন্ত্রধ্বনি’ প্রতিমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছিলাম -তা স্পষ্ট মনে করতে পারছি না। তবে দিয়েছিলাম।

২০০৮ সাল  দীঘলবাগে পাথর চাঁপা ফুল

কবি মতেন্দ্র মানখিনের নিজ বাড়িতে কবির প্রথম কবিতার বই ‘ পাথর চাপা ফুল’ কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব। প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন। বিশেষ অতিথি জাতিসত্তার কবি মোহাম্মদ নূরুল হুদা। উনার সাথে ঢাকা থেকে একঝাঁক কবি গিয়েছিলেন নয়াপাড়ায়। আমি পথ ভুলে অনুষ্ঠান শেষের দিকে কবি মতেন দার বাসায় পৌছেই। দেখি কবি হুদা ভাইসহ অন্যকবিগণও চু খেয়ে আনন্দ করছেন, কবি মতেন দার ভীষণ প্রশংসা করছেন সাথে সস্ত্রীক আমাদের প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ও দেখলাম আড্ডায় মশগুল। আমি শুধু প্রতিমন্ত্রীর সাথে কুশল বিনিময় করতে পেরেছি তারপরই ধরে খাবারের জন্য বসিয়ে দিলেন। আমার খাবার তখনও শেষ হয়নি সবাই শহরের দিকে রওনা হয়ে গেলেন। আমিও দ্রুত বেরিয়ে গেলাম। দেখলাম ‍হুদা ভাই মহা আনন্দে পাজামা ভিজিয়ে নিতাই নদী পার হয়ে গেলেন। তপন বাগচি দাদাও ছিলেন সাথে। নদীর পাড়ে গাড়ি দাঁড় করানো। সেই গাড়ির কাছে প্রমোদ মানকিন সস্ত্রীক দাঁড়িয়ে আছেন। কাছে যেতেই আমাকে কবি বলে সম্বোধন করলেন আর স্ত্রীর কাছে আমার কবিতার বই সম্পর্কে বললেন। উনার স্ত্রী অবাক হয়ে গেলেন আমার কবিতার বই তিনি পড়েছেন আর আমি কবিতা লিখি সেই তথ্য জানার পর। পরে তিনি ঢাকায় দেখা করতে বলেছিলেন। আমি বিনয়ের সহিত ধন্যবাদ জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

লআরডি’র অনুষ্ঠান এবং আপেল সমাচার

তারিখটা মনে নেই। সমাজ চিন্তক আলবার্ট মানখিন নিয়ে গেলেন এলআরডির একটি অনুষ্ঠানে। গারো সংস্কৃতি বিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গারো ভাষায় উপস্থাপনা করার দায়িত্ব আমার। করলামও। অনুষ্ঠান শেষে জলপানি খাবারের সময়  প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ঘুরে ঘুরে আমার কাছে আসলেন আর উনার সঙ্গী অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন এই বলে- আমাদের গারো কবি। ভালো কবিতা লিখে। পরে তিনি নিজের হাতের প্যাকেট থেকে দুটো আপেল আমার হাতে জোর করে ধরিয়ে দিয়ে বললেন- খাও কবিদের একটু বেশি খেতে হয়। বেশি খেলে বেশি লিখতে পারবা। তিনি হাসলেন। আমি বিনয়ে কোঁকড়ে গেলাম।

ভাঙা পা তবু আনন্দের চিৎকার

মতেন দা ফোন করে জানালেন-আমাদের প্রতিমন্ত্রীর তো পা ভেঙেছে। খবরটা শোনার পর নিজেকে অস্থির মনে হলো। পরে সন্ধ্যার দিকে মন্ত্রী মহোদয়কে  ফোন করলাম। নিজের পরিচয় দিতেই তিনি জেরে বলে উঠলেন(মনে হলো তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন) – কবি… তুমি ভালো আছো? আমার পা ভেঙেছে এই খবর কোথা থেকে পেয়োছো? আমি বল্লাম- কবি মতেন দা বলেছেন। তিনি হাসলেন মনে হলো। তিনি বললেন- তাহলে কবি কবির সাথে যোগাযোগ আছে! তিনি জানালেন আমার ফোন করায় খুশি হয়েছেন! উনার সাথে দেখা করার আহ্বান করলেন। আমি আনন্দচিত্তে ফোন রেখে দিলাম।

এমন অনেক স্মৃতি তৈরি হয়ে জমা রয়েছে ঝুলিতে। সব স্মৃতি একসাথে বলা হলে খালি হয়ে যাবো। থাকুক কিছু স্মৃতি জমা আগামীর জন্য।

এই বছর আমাদের প্রিয় গারো জাতির পরম শ্রদ্ধার মানুষ অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিনের ৮তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হলো নিজবাসভবন রাংরা পাড়ায়। গারো জাতির গর্ব প্রতিমন্ত্রীর আত্মা চিরশান্তি লাভ করুন-এই কামনা সর্বদা!

।। মিঠুন রাকসাম

https://studio.youtube.com/video/50v9Agvcgd0/edit

https://thokbirim.com/2024/04/28/mithun/

 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x