টিএন : ‘ রিঙবো আচিক বিসারাং’ আয়োজিত সেরা সাত শিল্পীর অডিও সিডির মোড়ক উন্মোচন হয়ে গেলো ডি মাজেন্ড চার্চ নয়ানগর অডিটোরিয়ামে। ১৭ ডিসেম্বর বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সাংস্কৃতিক সংগঠন খ্রেংনা। এতে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও মানবাধিকার কর্মী সঞ্জীব দ্রং, উপসচিব হেমন্ত হেনরি কুবি, উপ করকমিশনার কর্ণেলিউস কামা, ফাদার লুই রোজারিও, সাবেক নকমা অনিত্য মানখিন, সুভজিৎ ঘাগ্রা, আলেক্সিউস চিছাম, আয়োজক সহযোগী সংস্থা কারিতাস ময়মনসিংহ থেকে আগত কর্মকর্তা বুলবুল মানখিন, গরেটি ম্রং, গাসুর কেন্দ্রীয় সভাপতি নিপুন মানখিন, ছাত্রনেতা অলীক মৃ, তরুণ কবি নিগূঢ় ম্রং প্রমুখ।
সাবেক নকমা অনিত্য মানখিন
মান্দি গানের সাথে ছোট সোনামণিদের নাচের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর সাবেক নকমা অনিত্য মানখিন সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং খ্রেংনার উদ্দেশ্য ও কাজ সম্পর্কে বলেন। এরপর অতিথিবৃন্দের শুভেচ্ছা বক্তব্য শুরু হয়।
বক্তব্য রাখছেন লেখক সঞ্জীব দ্রং
শুভেচ্ছা বক্তব্যে লেখক সঞ্জীব দ্রং বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান হলো অন্যরকম অনুষ্ঠান। মান্দিদের গান রেকর্ড হয়েছে মিউজিকের মাধ্যমে। বাংলাদেশে গারো গান বা আচিক গান রেকর্ড করা ছিলো না আমরা সাধারণত ভারতের গানগুলো ব্যবহার করতাম। তো আমি মনে করি এটা নতুন একটা ধারা আমাদের জন্য, তো যারা গেয়েছে তাদের অভিনন্দন। কিন্তু মনে রাখতে হবে গান গেয়ে জীবন চলবে না। মানে গান গেয়ে বাংলাদেশে বিশেষ করে মান্দি গান গেয়ে চলবে না। মানে গান গেয়ে অনেক টাকা হবে না। কিন্তু টাকা পয়সা হলে গান হবে না। আমার মনে হয়না যাদের টাকা পয়সা আছে তাদের যে গান হয় বা সৃজনশীল কিছু হয়। ধনী মানুষ কয়জন লেখালেখি করে? কবিতা লিখে? গল্প লিখে, কলাম লিখে কয়জন? আমি জানি না। তো সংগ্রামের মধ্যে থাকলে গান আসবে। আবার কণ্ঠও একটা ব্যাপার আছে। আবার গান রচনা করা, সুর দেয়া সেটাকে প্রডাকশন বের করা আরেকটা ব্যাপার। তো আমি বলতে চাই তোমরা যারা পড়ালেখা করছো তোমরা পড়াশুনা চালিয়ে যাবে।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দিচ্ছেন বুলবুল মানখিন
বুলবুল মানখিন বলেন, যত শিল্পী যত সৃজনশীল ব্যক্তির উদয় হবে তত আমাদের সমাজের তাড়াতাড়ি উন্নয় হবে বলে আমি মনে করি। আমরা কারিতাস ছোট আঙ্গিকেই শুরু করে আসছি। অনেক বছর আগে থেকেই শুরু করে আসছি। তো আমরা যদি তাদের সহযোগিতা করে যেতে পারি, উৎসাহ দিতে পারি তাহলে হয়তো আমরাও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মতো আমাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পারবো এবং উন্নয়নের শিকড়ে পৌছাতে পারবো।
বক্তব্য রাখছেন উপ সচিব হেমন্ত হেনরি কুবি
উপসচিব হেমন্ত হেনরি কুবি বলেন, আমরা এমন একটা সমাজ চাই যে সমাজে কোনো ধরনের বঞ্চনা থাকবে না, শোষণ থাকবে না। এখন বঞ্চনা , শোষণ থেকে এমনি এমনি মুক্ত হওয়া যাবে না। কেউ এসে জায়গা করে দিবে না। এটা আমরা কখন পাবো? যখন আমরা শিল্প সাহিত্যের দিকে এগিয়ে যাবো এবং অন্যান্য সেক্টর বা অঙ্গন যেগুলো রয়েছে সেসব অঙ্গনেও আমরা বিচরণ করবো, দাড়িয়ে যাবো তখনই আমরা নিশ্চিতভাবেই এই যে বঞ্চনার কথাগুলো আসছে, শোষণের কথাগুলো আসছে দুর্বলতার জাযগাগুলোর কথাগুলো আসছে সেগুলো থেকে আমরা মুক্ত হতে পারবো।
বক্তব্য দিচ্ছেন উপ করকমিশনার কর্ণেলিউস কামা
উপ করকমিশনার কর্ণেলিউস কামা বলেন, গারো আদিবাসীর সংস্কৃতি সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। এ্ চর্চা এবং বিকাশের জন্য যারা বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে তাদের মধ্যে খ্রেংনার এই উদ্যোগ আমাদের সংস্কৃতিকে আরো অনেকদূর এগিয়ে নিবে যাবে। খ্রেংনার আজকের আয়োজনটি খুবই সুন্দর একটি আয়োজন।
বক্তব্য রাখছেন সাবেক নকমা আলেক্সিউস চিছাম
সাবেক নকমা আলেক্সিউস চিছাম বলেন, আমরা আগে ভারতের গান দিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান চালাতাম কিন্তু বর্তমানে আমাদের এই উদ্যোগ খুবই ভাল উদ্যোগ। এখন আর ভারতের আচিক গানের দিকে তাকাতে হবে না। আমিও আপনাদের সাথে আছি যতটা পারি আপনাদের সাথে থাকার চেষ্টা করবো।
বক্তব্য রাখছেন সাবেক নকমা শুভজিৎ সাংমা
নকমা শুভজিৎ সাংমাও নকমা আলেক্সিউসের সাথে একমত পোষণ করে খ্রেংনার আয়োজনকে অভিনন্দন জানান।
সংগীত পরিবেশন করছেন জাদু রিছিল
৭ শিল্পীর অডিও সিডি মোড়ক উন্মোচনের পর অতিথি উপসচিব হেমন্ত হেনরী কুবি সংগীত পরিশেন করেন। পরে একে একে সেরা ৭ শিল্পী এবং অনুষ্ঠানের বিচারক ট্রগর দ্রং ও জাদু রিছিল গান পরিবেশন করেন।
সেরা শিল্পীদের মধ্যে সবাই খ্রেংনা এবং কারিতাস ময়মনসিংহ অঞ্চলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আদিত্য মৃ
আদিত্য মৃ তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, আমার প্রথম অ্যালবাম হিসেবে আমার কাছে খুব রোমাঞ্চকর। আমি খুব আনন্দিত।
দুর্জয় নকরেক
দুর্জয় নকরেক বলেন, ধন্যবাদ জানাই খ্রেংনা এবং ময়মনসিংহ কারিতাসকে। হঠাৎ করেই প্রতিযোগিতা হলো আর হঠাৎ করেই আমি সুযোগ পেয়ে গেলাম। অসাধারণ লাগছে!
স্নিগ্ধা থিগীদি
স্নিগ্ধা থিগীদি বলেন, খুবই ভাল লাগার একটা অনুভূতি। আমি ধন্যবাদ দিতে চাই কারিতাস ময়মনসিংহ অঞ্চল এবং খ্রেংনাকে। এই আয়োজন না থাকলে আজকে এই জায়গায় আমি থাকতাম না। আমি অনেক খুশি। আমি সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই যারা শ্রম দিয়েছেন এ্যালবামের পেছনে পরিশ্রম করছেন।
অনুষ্ঠানটি আয়োজক খ্রেংনা সংগঠন। আর সহযোগিতায় ছিলো কারিতাস ময়মনসিংহ অঞ্চল এবং ঢাকা ওয়ানগালা, ইয়ূথ পিস নেটওয়ার্ট (এ্যাকশন এইড ও আইপিডিএস)।
টগর দ্রং
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিল্পী টগর দ্রং।
উল্লেখ্য, ‘রিঙবো আচিক বিসারাং’ নামে গত জুন মাসে ময়মনসিংহের কারিতাস মিলনায়তনে তরুণ গারো শিল্পীদের অংশগ্রহণে সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়েছিলো। প্রতিযোগিতায় আদিত্য মৃ, স্নিগ্ধা থিগীদি, চৈতী মানখিন, প্রিং হাগিদক, ন্যামসি মৃ, দুর্জয় নকরেক, হান্না মৃ সেরা ৭ শিল্পী নির্বাচিত হন।
দর্শকবৃন্দের একাংশ

‘লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল’
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান......বিস্তারিত
-
ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত
: ২০২৫ সালের প্রথম রংচু গালা ধরাতী গ্রামে শুরু হয়েছে। গত...
-
প্রণব নকরেক-এর দুটি কবিতা
: অভিশপ্ত সিসিফাস আষাঢ়ে ভেজা পথ হাঁটছি একা মিলছেনা অবসর ক্লান্তিতে...
-
আজ লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের জন্মদিন
: গারো জাতিসত্তার বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের আজ জন্মদিন! থকবিরিম...
-
Ku’bibal ।। Dama।। Liang Ritchil
: Dama Liang Ritchil Rangri mandal gambari, Oe ku•monggrike dongari; Nokma...
-
লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান...
-
নিগূঢ় ম্রং-এর দুটি কবিতা
: অদ্ভুত নেশা —————– খোঁপায় বুনোফুল লাল টকটকে দকমান্দা পড়া উদাসী...
‘ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত’
: ২০২৫ সালের প্রথম রংচু গালা ধরাতী গ্রামে শুরু হয়েছে। গত......বিস্তারিত
‘লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল’
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান......বিস্তারিত






ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত
প্রণব নকরেক-এর দুটি কবিতা
আজ লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের জন্মদিন
Ku’bibal ।। Dama।। Liang Ritchil
লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল
নিগূঢ় ম্রং-এর দুটি কবিতা












