ওরা সেরেনজিংকে ধরে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরদিন সকালে নোরেং (মাসি) থোরার বাবাকে খবর দেয় বিয়ের আয়োজন করতে। ঘটা করে আর সেরেনজিংকে বিয়ে দেয়া গেল না। একজন খামাল (পুরোহিত) ডেকে দুটো মোরগ বধ করে খামালের মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে থোরার সাথে সেরেনজিংয়ের বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হল। তবে খামাল দোবিক সিম্মা অর্থাৎ মোরগের নাড়িভূরি পরীক্ষা করে বলেছে এ বিয়েতে মিলন হবেনা বিচ্ছেদ হবে। সব কিছু উপলদ্ধি করার পর সেরনজিং নীরব রয়ে গেলো। তবে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো সে কোনমতেই থোরার সাথে বাসর শয্যায় মিলিত হবে না। এ কখনো হতে পারে না। আগেই বলা হয়েছে থোরা ছিলো নিতান্ত হাবা গোছের লোক। অভিভাবকেরা সেরেনজিংকে থোরার ঘরে ঢুকিয়ে দেয়ার পর সেরেনজিয়ং তার সাথে এটা ওটার অনুযোগ অভিযোগ জানিয়ে কয়েকদিন কাটিয়ে দিল। ছোট বোন সেরেনজিংকেও সে এখন ধারে কাছে পায় না। তাকেও চোখে চোখে রাখে মাসি। একদিন কি একটা কাজে সেরানী এসেছিল থোরার ঘরে। দিদিকে কাছে পেয়ে কিছু বলতে চায়লো সেরানী। সেরানী থোরার কাছে বিড়ি চাইলে সে অন্য ঘর থেকে বিড়ি আনতে গেল। এই ফাঁকে সেরেনজিং ছোট বোন সেরানীকে বললো
-নদী ঘাটের যে ছোট বাড়িটা সেখানেই ওয়ালজানের রাখাল বন্ধু থাকে। তাকে যেন সে খবর দেয় ওয়ালজামকে খুঁজতে।
সেরানীর কথামত ওয়ালজামকে খোঁজতে বের হল ওয়ালজামের রাখাল বন্ধু। অনেক খুঁজা খুঁজির পর তাকে পাওয়া গেল। অন্য এক পাহাড়ে পাগলের মত বেড়ায় সে। বন্ধুকে পেয়ে সব খুলে বলল। ওয়ালজান প্রথম সে কথা বিশ্বাস করতে চায়নি। তখন বন্ধুটি বললে।
-তোমার জন্য দিন গুনছে সেরেনজিং। যদি তুমি তাকে গ্রহণ না করে তবে সে আত্মহত্যা করবে। এই তার শেষ কথা। আমি সব জেনে এসেিেছ। সে সতীনারী আগামী বুধবার মেসো মাসি ও মামারা সেরেনীর পাত্র খোঁজার জন্য বাড়ি থেকে অনেক দূরে চলে যাবে। এই সূবর্ণ সুযোগ। দুই বন্ধুতে অনেক্ষণ আলাপের পর ঠিক হল বুধবার রাতেই সেরেনজিংকে নিয়ে পালাতে হবে। সেদিন থোরাকে সারাদিন “চু” মদ খায়ানো হল। সন্ধার সাথে সাথেই সে ঘুমিয়ে পড়েছে। সেরেনিকে কাছে ডেকে বিয়ের অলংকারাদি সব তার কাছে রেখে সেরেনজিং রাতের আঁধারে গৃহত্যাগ করলো ওয়ালজানের বন্ধুর সাথে। সিমসাং নদীর ওপারে ওয়ালজান অপেক্ষা করছিলো। ওয়ালজামকে দূরবর্তী পাহাড়ে জুমক্ষেতে মাচাং বেঁধে ক্ষেতপাহাড়া দেবার কাজে নিয়োজিত করেছে। ওয়ালজান সেখানেই থাকে। সেরানী তার জন্য খাদ্য সামগ্রী নিয়ে যায়। ওয়ালজানকে কিছুদিন ধরে দেখতে না পেয়ে সেরেনজিংয়ের মন কাঁদে। ঘরের কাজে মন বসে না । মন ছুটে যায় নীল পাহাড়ে জুম ক্ষেতে।
“রামা বাখো রেগিনক সিলাংদারে রারাজক
আংআসামিং দংনাজক সংও ওয়ালজাম দংজাজক”।
বাংলা
কোন পথে যাবো আমি চারদিকে পাহাড় আর পর্বত
ওয়ালজাম ছাড়া অন্ধকার আমি দেখি এ জগত।
সেরেনজিং এর মনের অবস্থা কে বোঝে! যদি ওয়ালজামকে সে একবার কাছে পেত। এদিকে তার মামাত ভাই থোরার সাথে তার বিয়ের দিন তারিখ ঘনিয়ে এসেছে। একদিন তার ছোট বোন সেরানীকে সে বলে।
-ওয়ালজানকে আজ সন্ধায় নদীর ঘাটে বট গাছের কাছে থাকতে বলবে। যদি না আসে তাহলে আমি সোমেশ্বরী জলে ডুবে মরব।
চলবে…
পালাগান ‘সেরেজিং’ -এর অন্যান্য পর্বগুলো:
পালাগান সেরেজিং ।। পর্ব-৬।।মতেন্দ্র মানখিন
পালাগান সেরেজিং ।। পর্ব-৫।।মতেন্দ্র মানখিন
পালাগান সেরেজিং ।। পর্ব-৪ ।।মতেন্দ্র মানখিন
পালাগান সেরেজিং ।। পর্ব-৩।।মতেন্দ্র মানখিন
‘লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল’
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান......বিস্তারিত
-
ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত
: ২০২৫ সালের প্রথম রংচু গালা ধরাতী গ্রামে শুরু হয়েছে। গত...
-
প্রণব নকরেক-এর দুটি কবিতা
: অভিশপ্ত সিসিফাস আষাঢ়ে ভেজা পথ হাঁটছি একা মিলছেনা অবসর ক্লান্তিতে...
-
আজ লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের জন্মদিন
: গারো জাতিসত্তার বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের আজ জন্মদিন! থকবিরিম...
-
Ku’bibal ।। Dama।। Liang Ritchil
: Dama Liang Ritchil Rangri mandal gambari, Oe ku•monggrike dongari; Nokma...
-
লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান...
-
নিগূঢ় ম্রং-এর দুটি কবিতা
: অদ্ভুত নেশা —————– খোঁপায় বুনোফুল লাল টকটকে দকমান্দা পড়া উদাসী...
‘ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত’
: ২০২৫ সালের প্রথম রংচু গালা ধরাতী গ্রামে শুরু হয়েছে। গত......বিস্তারিত
‘লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল’
: পরাগ রিছিল কবি-গবেষক-সংস্কৃতিকর্মী জন্ম : ১৯৮১ সালের ৩ জুলাই জন্মস্থান......বিস্তারিত



ধরাতী গ্রামে রংচু গালা অনুষ্ঠিত
প্রণব নকরেক-এর দুটি কবিতা
আজ লেখক ও গবেষক সুভাষ জেংচামের জন্মদিন
Ku’bibal ।। Dama।। Liang Ritchil
লেখক অভিধান : পরাগ রিছিল
নিগূঢ় ম্রং-এর দুটি কবিতা












